desh লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
desh লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫

গোপালপুরে এইসএসসিতে চার শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫

গোপালপুরে এইসএসসিতে চার শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫


২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গোপালপুর উপজেলায় হতাশাজনক ফলাফলের মধ্যেও, পুরো উপজেলায় গোপালপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়ে আশার আলো দেখিয়েছে তিন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা হলেন, আলমনগর ইউনিয়নের মাদারজানী গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন ও ফরিদা বেগম দম্পতির বড় ছেলে শেখ ফরিদ; পৌর শহরের সুতী পটলপাড়া এলাকার ফজলুর রহমান ও আছমা খাতুন দম্পতির কন্যা ফারজানা রহমান চৈতি; এবং হাদিরা ইউনিয়নের ভাড়ারিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আমিনা বেগম দম্পতির বড় সন্তান মোছা. নাহিদা খাতুন।

এছাড়াও খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমী থেকে কারিগরি শাখায় তাসকিন নামের এক শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন।


শেখ ফরিদ জানান, আলমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪.৮৯ জিপিএ পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে সাইকেলে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন। কৃষক বাবা তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেলেও কখনও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। তাদের সামান্য জমি থেকে ১৫ শতাংশ বন্ধক রেখে বাবাই পড়াশোনার খরচ দিতেন। এবার এইচএসসিতে গোপালপুর উপজেলার সর্বোচ্চ ৫.০০ পয়েন্ট পেয়েছেন। পড়ালেখা অব্যাহত রেখে প্রশাসন ক্যাডারে বিসিএস করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান।

ফারজানা রহমান চৈতি জানান, নন্দনপুর রাধারানী পাইলট গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসিতে ৫.০০ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর বাবা ঢাকায় একটি সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। বাবা-মায়ের উৎসাহেই ভালো পড়াশোনা করেছেন এবং এবার এইচএসসিতে সর্বোচ্চ ৫.০০ পয়েন্ট অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।

মোছা. নাহিদা খাতুন জানান, ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪.৮৯ জিপিএ পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলেন। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও দূর থেকে ভ্যান ও অটোরিকশায় নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন। তাঁর বাবা পেশায় পিকআপ চালক। বাবার স্বপ্ন, মেয়েটি ডাক্তার হোক। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ডাক্তার হতে চান নাহিদা। এজন্য সকলের দোয়া চেয়েছেন। এবারে তিনি এইচএসসিতে ৪.৮৩ পয়েন্ট পেয়েছেন।

গোপালপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আহসান হাবীব বলেন, গোপালপুরের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে চায় না, নিয়মিত ক্লাস করলে আরো ভালো ফলাফল হতো। গোপালপুরে এবার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে, চেষ্টা করতেছি আগামীতে আরো ভালো ফলাফল করার।

গোপালপুরে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন, অনুপস্থিতি বাড়ছে

গোপালপুরে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন, অনুপস্থিতি বাড়ছে

 

মো. রুবেল আহমেদ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সেনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেই নির্মিত বিদ্যালয়ের দুই কক্ষের ভবনটি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সম্প্রতি ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাদের ফ্যান পড়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহত হন।

ভবনটির বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ছে। ফলে ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের আরেকটি পুরনো তিন কক্ষের টিনের চালা পাকা ঘরে আপাতত পাঠদান চালানো হলেও সেটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে।

বৈরাণ নদের তীরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ঘরের বারান্দার খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং ঘরের পাশে একটি আমড়া গাছ বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।


গত ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার বিদ্যালয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিত শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল মাত্র ৮–১০ জন। তখন শুধুমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন,

বিদ্যালয়ে মোট ৫টি শিক্ষকের পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দুইজন শিক্ষিকা মাতৃত্বজনিত সমস্যায় ছুটিতে, একজন শিক্ষকের স্ত্রীর পরীক্ষা থাকায় তিনি অনুপস্থিত। এছাড়া বিদ্যালয়ের পিয়ন একটি মামলায় কারাগারে আছেন। একা হাতে সব সামলানো কঠিন। পাঠদানের পাশাপাশি অফিসের কাজ, টিকা নিবন্ধনের কাজও করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। ভবনগুলো এতটাই জরাজীর্ণ যে অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাতে ভয় পান। বিদ্যালয়ে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত থাকে মাত্র ২০–২৫ জন। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ এখন খুবই জরুরি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গোপালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বিলকিস সুলতানা বলেন, ফ্যান পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য বলেছি। পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবনের জন্য লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছি। শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়টি জানিনা।

গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার সকল ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়েও খোঁজ নিবো।

খ্যাতি গড়া গোপালপুরের তারকারা

খ্যাতি গড়া গোপালপুরের তারকারা



মো. রুবেল আহমেদ

এ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন টাঙ্গাইলের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ অনেক রাজনীতিবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। মানবসেবায় অবদান রেখেছেন রণদা প্রসাদ সাহা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের কোচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গোলাম রব্বানী ছোটন।

জাদুবিদ্যায় বিশ্বকে তাক লাগানো পি. সি. সরকার, বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা আসলাম তালুকদার মান্না, অমিত হাসান, নাঈম, প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ, জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো, অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক সালমা খাতুনের জন্ম এই টাঙ্গাইল জেলায়।

তেমনি গোপালপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন বর্তমান সময়ের তারকা বা সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রিটি—যাদের পরিচিতি রয়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। যেমন, দেশের নারী ফুটবলে আলোড়ন তুলেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। সংগীতে পরিচিত মুখ শাহীন খান, পলাশ শীল, শেখ সোলায়মান, রাকিব, রবি কিশোর এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া জীবন আহমেদ নিলয়ের উঠে আসার গল্প আজ জানব।


কৃষ্ণা রানী সরকার

নগদা শিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার। তার শুরুটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। নারী সতীর্থ না মেলায় ছোটবেলায় ছেলেদের সাথেই ফুটবল খেলতে হতো। এতে পরিবারকে নানাভাবে কটুক্তি সইতে হয়েছে। ফুটবলের প্রতি আসক্তি কমাতে মা নমিতা রানী একসময় ক্ষোভে কৃষ্ণার ফুটবল কেটে ফেলেন। তবুও অদম্য কৃষ্ণাকে থামানো যায়নি।

প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ দেখে ডাক পড়ে সূতী ভিএম মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপনের তত্ত্বাবধানে তার এগিয়ে যাওয়া শুরু।

সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২২-এর ফাইনালে কৃষ্ণার দুই গোলের সুবাদে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতে। তিনি বসুন্ধরা কিংস মহিলা দলের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলেন। এছাড়াও সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ, বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারী আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ–দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় এশিয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১৫ সালে কৃষ্ণার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ গার্লস ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। খেলাধুলার পাশাপাশি বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে স্নাতক অধ্যয়নরত।


শাহীন খান

হেমনগর ইউনিয়নের সোনাটা গ্রামে জন্ম নেওয়া শাহীন খান উঠে আসেন চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে। এন. আই. শুভর লেখা তার একক অ্যালবাম আনকোড়া'র একটি গান "আমার জনম জনম গেল ভুলে ভুলে কইরা পিড়িতি" এবং কিস্তিমাত সিনেমায় পড়শীর সাথে প্লেব্যাক করা 'পড়েছি প্রেমে প্রথম দেখায়' গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

শাহীন খানের বাবা গান করতেন। ছোটবেলায় বাবার কোলে বসেই সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি চাচার কাছে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন এবং থিয়েটার করতেন। ২০১২ সালে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ রিয়েলিটি শোয়ের প্রথম রানার্স আপ হন। এরপর বড় বড় চাকরির অফার পেলেও সংগীত চর্চায় মনোযোগ দিতে সেগুলো ফিরিয়ে দেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক দলে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শাহীন জানান, রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে পরিচয় তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। তিনি তাকে সন্তানের মতো স্নেহ করেন।



পলাশ শীল

হেমনগর ইউনিয়নের হেমনগর জমিদার বাড়ির পাশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা পলাশ শীলের পরিবারে ছিল গান-বাজনার পরিবেশ। ছোট থেকেই ঘরে ঢোল, তবলা, বেহালা দেখে সংগীতের প্রতি আকর্ষণ জন্মে। হেমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের হাত ধরে তার সংগীত জীবনের শুরু।

মাছরাঙা টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০১৯-এ যৌথ বিজয়ী হন। এখান থেকেই জনপ্রিয় বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের শিষ্যত্ব নেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সাথে ডুয়েট গান গেয়ে আলোচনায় আসেন।

তিনি ফোক ও লালনের গান গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত স্টেজ প্রোগ্রাম করেন। সম্প্রতি ইয়োডা ইউনিভার্সিটি থেকে লোকসংগীতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

পলাশ শীল বলেন, সংগীতের উপর পড়াশোনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগীত আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।


শেখ সোলায়মান

নগদা শিমলা ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের শেখ সোলায়মান শখের বশে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ফেসবুকের কল্যাণে তার বাঁশির সুর লাখো মানুষের হৃদয় জয় করেছে।

তবে বিভিন্ন সময় কটু কথাও শুনতে হয়েছে। এমনকি বড় চুল কেটে ছোট করতে বাধ্য হয়েছেন। ফেসবুকে তার প্রায় ৬ লক্ষ ফলোয়ার এবং টিকটকেও বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। অনেক প্রবাসী ভক্তও রয়েছে।

বাঁশির পাশাপাশি নিজের দরাজ কণ্ঠে খালি গলায় গানও করেন। ফলোয়ারদের অনুরোধে স্টেজ প্রোগ্রামেও যান। প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনি ডিসক্লেইমার দিয়ে বলেন "আমি কোনো পেশাদার শিল্পী নই। শখের বশে বাঁশি বাজাই ও গান গাই।"
সোশ্যাল মিডিয়ার ভক্তদের সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশ নিয়েছেন।



রাকিব হাসান

ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ভেঙ্গুলা গ্রামের রাকিব হাসান গান কাভার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে অনার্সে পড়াশোনা চলাকালীন ২০২১ সালে করোনায় সব বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ইউকুলেলে বাজানো শেখেন। এরপর গান কাভার করে ফেসবুকে আপলোড শুরু করেন। প্রথমে সাড়া না পেলেও ২০২৩ সালে একটি গান ভাইরাল হলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

বর্তমানে তার ৮ লক্ষাধিক ফলোয়ার রয়েছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও ডাক পাচ্ছেন। ফ্ল্যাশব্যাক নামে একটি ব্যান্ডের সাথে নিয়মিত স্টেজ প্রোগ্রাম করেন।

ভবিষ্যতে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সংগীতের মাধ্যমে দেশসেবার স্বপ্ন দেখেন।

রবি কিশোর

মির্জাপুর ইউনিয়নের উত্তর মান্দিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামকে ‘রবি কিশোর’ নামটি দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর নিজেই।

ছোটবেলা থেকেই এন্ড্রু কিশোরের গান অনুকরণ করতেন। বাংলাদেশ আইডল রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের সময় এন্ড্রু কিশোরের সাথে আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল হয়।

পরে তিনি নিয়মিত এন্ড্রু কিশোরের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। ভুঞাপুরে এন্ড্রু কিশোরের শেষ স্টেজ প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকার সুযোগ পান।

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর পর তার স্মরণে, রুবেল আহমেদ এর কথায় "দাদা তুমি চলে গেলে আমায় ফেলে একা" গান গেয়ে আলোচনায় আসেন রবি কিশোর। বর্তমানে তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী


জীবন আহমেদ নিলয়

নগদা শিমলা ইউনিয়নের জামতৈল গ্রামে জন্ম নেওয়া জীবন আহমেদ নিলয় সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।

তার বর্তমানে টিকটকে ৩৪ লক্ষ, ফেসবুকে ৯ লক্ষ এবং ইউটিউবে ২ লক্ষাধিক ফলোয়ার রয়েছে।

২০১৬ সালে কয়েকজন বন্ধু মিলে ইউটিউবিং শুরু করলেও সফল হননি। পরে একাই কাজ চালিয়ে যান। ২০২১ সালে সফলতা ধরা দিলে বন্ধুরা আবার যুক্ত হন।

জীবন আহমেদ নিলয় বলেন, পরিচিতি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি শুটিংয়ের সময় নানা বিড়ম্বনাও পোহাতে হয়। আমার প্রতিটি ভিডিওতে সমাজসেবামূলক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করি। সবার ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

শতবর্ষী ভোরের কৃষি শ্রম বিক্রির হাট

শতবর্ষী ভোরের কৃষি শ্রম বিক্রির হাট

মো. রুবেল আহমেদ

কবির ভাষায় সব সাধকের বড় সাধক, আমার দেশের চাষা। কিন্তু সেই চাষার সকল আশা ম্লান হয়ে যায়, যখন তার উৎপাদিত ফসল সময়মতো ঘরে তুলে পারে না। 

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সময়মতো শ্রমিক না মিললে, নষ্ট হয় উৎপাদিত ফসল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। বোরো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবার রেকর্ড অনেক আগে থেকেই। পর্যাপ্ত কম্বাইন হারভেস্টার না থাকায় এখনো টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কৃষকদের নির্ভর করতে হয় মানুষের শ্রমের উপর। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট দেখা গেছে। শ্রমিক সংকট সমাধানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকেই শুরু হয় শ্রম বিক্রির হাট। শতবর্ষ ধরে হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া বাজার ও ঝাওয়াইল ইউনিয়নের কাহেতা স্কুল মাঠ সংলগ্ন সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার বসে। এ ছাড়াও ঝাওয়াইল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এসে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হয়। গৃহস্থের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব শ্রমিক ধান কাটার জন্য আশেপাশের গ্রামে নিয়ে যান। স্থানীয়রা তাদের কামলা বলে অবহিত করেন।

ভোর ৫টায় শুরু হয় এই শ্রম বাজার এবং শেষ হয় ৬টার মধ্যেই । একজন শ্রমিক ভোর৬টা থেকে বেলা ডোবা পর্যন্ত কাজ করেন ৯০০-১১০০টাকা মজুরির বিনিময়ে।

স্থানীয়রা জানান, এসব কামলারা যমুনা নদীর চরাঞ্চল থেকে বেশি আসে। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা অঞ্চলের অনেক মানুষ আসেন শ্রম বিক্রির জন্য। এরা বিভিন্ন বাজার , স্কুলের বারান্দা ও খোলা মাঠে রাত কাটায়। সকাল ও দুপুরে গৃহস্থের বাড়িতে খায় । রাতে এদের জন্য খোলা বিশেষ হোটেল বা দলবদ্ধ হয়ে পাকিয়ে খায়। 

উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রম বিক্রির জন্য আসা মুক্তার হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় কাজ কম থাকায় প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে এখানে চলে আসি । এতে ভালো উপার্জন হয়, এদিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারি। 

কুমুল্লী গ্রামের কৃষক আরিফ মিয়া জানান, বিঘা প্রতি ৩হাজার টাকা নিলেও। সময়মতো ধান কাটার মেশিন পাওয়া যায় না । এছাড়া শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে নষ্ট কম হয় । তাই বেলুয়া বাজার থেকে কামলা নিয়ে কাজ করাই।

ঝাওয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকরা রাতে থাকার জন্য, বাজারের বিভিন্ন শেড ও ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় অবস্থা নেন। এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, পুরো উপজেলায় ৩০টি কম্বাইন হারভেষ্টার থাকলেও, সচল রয়েছে ২৬টি। এখানে শ্রমিক সংকট তেমন নেই। গোখাদ্যর খড় সংগ্রহের জন্য অনেক কৃষক কম্বাইন হারভেষ্টারের চাইতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কবরের নীরব সাথী আ. খালেক

কবরের নীরব সাথী আ. খালেক



মো. রুবেল আহমেদ.

মৃত্যুর নাম শুনলেই শিউরে ওঠে মানুষ। কবরের পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়েও অনেকে ভয় পান। কিন্তু সেই কবরই হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নূঠুর চর গ্রামের এক বৃদ্ধের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আ. খালেক, বয়স এখন সত্তর। জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন কবর খুঁড়ে, খুঁড়েছেন দুই হাজারেরও বেশি কবর।

আ. খালেকের চোখেমুখে নেই কোনো ক্লান্তি, নেই অনুতাপও। বরং গর্বের সুরে বলেন, প্রায় ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে এ কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহ যতদিন শক্তি দেবেন, ততদিন কবর খুঁড়েই জীবন কাটাব।

মৃত্যুর সংবাদ যেন আ. খালেকের কানে পৌঁছে যায় সবার আগে। গ্রামের কোনো মানুষ মারা গেলে অন্যরা জানুক বা না জানুক, তিনি খবর পেয়ে দৌড়ে যান কবরস্থানে। নিজ গ্রাম নুঠুরচর, ঘাটাইল উপজেলার নরজনা কবরস্থান ছাড়াও কয়েকটি কবরস্থানের দায়িত্ব তার কাঁধেই। কোন জায়গায় কবর খোঁড়া হবে, কিভাবে হবে সবটা একাই সামলান এবং কবরস্থানগুলো নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখেন। তিনি মনে করেন, এটি তার দায়িত্ব, মানুষের শেষ আশ্রয় ঠিক করার দায়িত্ব।

তবে কাজের শুরুটা ছিল সহজ নয়। প্রথম দিকে কবর খুঁড়তে গিয়ে হাড়, মাথার খুলি কিংবা পুরোনো কাফনের কাপড় বেরিয়ে এলে আঁতকে উঠতেন তিনি। সাপ, শিয়ালের সাথেও হয়েছে মুখোমুখি। কিন্তু ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে নিয়েছেন। এখন এসব তাঁর কাছে আর অস্বাভাবিক লাগে না।

গ্রামের মানুষ আ. খালেককে ডাকে গোরস্থানের অভিভাবক। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এ কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর কাছে মৃত্যু ভয় নয়, বরং মানবসেবার একটি পথ।

কবরের নীরব নিস্তব্ধতার মাঝেই আ. খালেক খুঁজে পান জীবনের শান্তি। অন্যেরা যেখানে কবরকে এড়িয়ে চলেন, তিনি সেখানে খুঁজে পান নিজের অস্তিত্বের মানে।

ঐতিহ্যে এগিয়ে, প্রযুক্তিতে পিছিয়ে হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

ঐতিহ্যে এগিয়ে, প্রযুক্তিতে পিছিয়ে হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়


মো. রুবেল আহমেদ, 

উনিশ শতকের শেষ প্রহরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ইতিহাসে শিক্ষার আলো জ্বেলে ওঠে এক নতুন নাম হেমনগর শশীমুখী হাই ইংলিশ স্কুল। জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় গোপালপুরের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আজও ঐতিহ্যের গৌরব বয়ে চলছে। শত বছরের পুরনো এই বিদ্যালয়ে নেই কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার বা লাইব্রেরি। তবুও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও ভালো ফলাফল ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুখুরিয়া পরগণার প্রভাবশালী জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৯০ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শিমলাপাড়া মৌজায় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে একটি বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে হেমনগর রাজবাড়ী নামে পরিচিত। রাজবাড়ীর চারপাশে রয়েছে সাতটি পুকুর।

স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি তাঁর নিঃসন্তান সৎ মা শশীমুখী দেবীর নামে রাজবাড়ীর পূর্ব পাশের পুকুরপাড়ে ১৯০০ সালে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা করেন হেমনগর শশীমুখী হাই ইংলিশ স্কুল।

এটি গোপালপুর উপজেলার প্রথম স্কুল এবং তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ছিল। বর্তমানে এটি হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার সময় বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন গিরিশ চন্দ্র সেন।



১৯০০ সালে বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান শুরু হলেও, ১৯১৫ সালে চালু হয় ৮ম শ্রেণি (মাইনর)। দেশভাগের কয়েক বছর আগে মেট্রিকুলেশন ব্যবস্থা শুরু হয়। সে সময় স্থানীয়দের ইংরেজি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম থাকায় বিদ্যালয়টি বাংলা মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কলকাতা বোর্ডের অধীনে ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষা দিতে যেতে হতো জামালপুরে, আর পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জে।

‘ময়মনসিংহের বিবরণ’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে—১৯০৪ সালে হেমনগর হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২০১ জন, আর তখন গোপালপুরে ইংরেজি জানা লোকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯৯।

স্থানীয় বাসিন্দা সরকার মাজহারুল ইসলাম মিলন জানান, জমিদারের দুই মেয়ের জামাই বাদল চন্দ্র মুখার্জি ও হরিদল চন্দ্র মুখার্জিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্ঞানী শিক্ষক এনে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হতো। তখন হেমনগর ছিল এক প্রকার স্টেট, কলকাতার মানের শিক্ষাদান হতো এখানে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদ্যালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিল নষ্ট হয়ে যায়। পরে ২৯টি কাঠের আলমারিতে সংরক্ষিত নথিপত্র উলু পোকার আক্রমণে বিনষ্ট হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে; কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যালয়ের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বা এখনো কর্মরত আছেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মিঞা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ ১৮.১৩ একর। এখানে ৮০০+ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শ্রেণিকক্ষ বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর উপজেলার মধ্যে সেরা ফলাফল করে আসছে।

এখানে কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার স্থাপন করা জরুরি।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৭৭ জনের মধ্যে ৫৮ জন পাস করেছে এবং ৬ জন পেয়েছে এ-প্লাস। কারিগরি বিভাগে ১৫৯ জনের মধ্যে ১৪১ জন পাস করেছে, এর মধ্যে ১২ জন পেয়েছে এ-প্লাস।

হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার ভিপি বলেন, জমিদার বংশধরেরা একসময় ইন্টারমিডিয়েট চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশভাগের পর তারা কলকাতায় চলে যান। বিগত সরকারের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে পড়েছে। 

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন মধুপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর দাদা পদ্মলোচন রায় ব্রিটিশ সূর্যাস্ত আইনের মাধ্যমে আমবাড়ীয়ার জমিদারি লাভ করেন। ১৮৮০ সালে হেমচন্দ্র চৌধুরী সেই জমিদারি স্থানান্তর করেন সুবর্ণখালিতে (বর্তমান গোপালপুরের সোনামুখী বাজার সংলগ্ন)। সেটি যমুনায় বিলীন হলে ১৮৯০ সালে তিনি শিমলাপাড়া মৌজায় দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এরপর গ্রামের নামকরণ করা হয় হেমনগর। যা আজও “হেমনগর রাজবাড়ী” নামে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। 

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

দৃষ্টিহীন খোকার হাত ধরে খুকির অবিচল পথচলা

দৃষ্টিহীন খোকার হাত ধরে খুকির অবিচল পথচলা


মো. রুবেল আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি (টাঙ্গাইল)

গভীর ভালোবাসা মানে সবসময় সুখী দিনের গল্প নয়, বরং কষ্টের সময়েও হাত না ছাড়া। খোকা ও খুকির জীবনের গল্প ঠিক এমনই যেখানে অভাব, বেদনা আর অবিচল সঙ্গ একসাথে পথ চলেছে।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরের সুতি গ্রামের কাঙ্গাল দাস এলাকায় বসবাস করেন এই বৃদ্ধ দম্পতি খোকা (৬০) ও খুকি (৬৫)। ছোটবেলায় খোকা দুনিয়ার রঙ দেখতে পেতেন। কিন্তু মাত্র ছয়-সাত বছর বয়সে এক অজানা রোগে হারিয়ে ফেলেন দৃষ্টিশক্তি। সেই অন্ধত্বই হয়ে ওঠে সারাজীবনের সঙ্গী।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, খোকাকে অন্ধ জেনেও খুকির মামার অনুরোধে খুকি বিয়ে করেন তাকে। বিয়ের পরদিন থেকেই খুকি স্বামীর হাতে হাত রেখে পুরো গোপালপুর শহর ঘুরে ভিক্ষা করতে শুরু করেন। আজো পরম মায়ার সেই হাত ধরে রেখেছে খুকি। দিনের বেলায় শহর ঘুরে বেড়ানো, সন্ধ্যায় গোপালপুর পেট্রোল পাম্পের সামনে বসে থাকা এটাই তাদের জীবিকার একমাত্র পথ।

বয়সের ভারে খুকির শরীর এখন আর আগের মতো চলতে পারে না। কিছুটা কুঁজো হয়ে হেঁটে স্বামীর হাত ধরে এগিয়ে যান তিনি। তবুও সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে, রাত ৯টার পর ছোট্ট ভাঙা ঘরে ফেরেন দু’জনে। খুকি নিজেই কষ্ট করে রান্না করেন, খোকার মুখে তুলে দেন খাবার।

খোকার আসল নাম কি, সেটা এমনকি খোকা নিজেও জানেন না! মানুষ স্নেহ করে ডাকতে ডাকতে ‘খোকা’ নামটাই স্থায়ী হয়ে গেছে। তাদের প্রতি মায়া করে কিছু মানুষ নিয়মিত ৫/১০ টাকা করে দেন । তাদের দাম্পত্য জীবনেও সুখের সন্তান সঙ্গ ছিল না। এক সন্তান জন্ম নিলেও অকালেই মৃত্যু হয়। সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

একটি ছোট ছাপরা ঘরে দিন কাটছে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো কষ্টে। গোপালপুর শহরের পথ আর পেট্রোল পাম্পই তাদের জীবনের আয়ের একমাত্র আশ্রয়। আজও তারা অপেক্ষায় থাকেন, কেউ একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেবেন এই ভেবে।

সমাজের বিত্তবান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষেরা খোকা-খুকির পাশে দাঁড়ালে, হয়তো বদলে দিতে পারে এই অসহায় দম্পতির শেষ জীবনের গল্প।

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫

বিলুপ্তির পথে কাঠের লাঙ্গল

বিলুপ্তির পথে কাঠের লাঙ্গল


মো. রুবেল আহমেদ,

একজোড়া হালের গরু, লাঙ্গল-জোয়াল বাড়িতে থাকলেই প্রকাশ পেতো কৃষকের আভিজাত্য‌। আদিম কৃষিযন্ত্র লাঙ্গলে হালচাষ নিয়ে রচিত হতো অসংখ্য গান। সেসময় গরু-লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ আর মই দেওয়ার দৃশ্য সবার নজর কাড়তো।  লাঙ্গলেই মঙ্গল রাজনৈতিক শ্লোগানটি কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিল। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গৃহস্থের বাড়িতে কেউ টানা ১২বছর কাজ করলে, সেই বারো মাসি কামলা (শ্রমিক)কে ২বিঘা ধানের জমি, এক জোড়া হালের গরুসহ লাঙ্গল-জোয়াল উপহার দেয়ার প্রথা চালু ছিল।

কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু, লাঙল, জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে যেতেন মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। কালের পরিক্রমায় আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত যান্ত্রিক ফলার কাছে জৌলুস হারিয়েছে কাঠের লাঙ্গল। পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে কৃষিতে, অল্প সময়ে অধিক জমিতে চাষ করে দিচ্ছে পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরগুলো।


বিলডগা গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক শাহজাহান আলী আক্ষেপ করে বলেন, আগে সকাল দল বাইন্ধা পাড়ার চাষীরা মিলে, হাইলা গরুসহ নাঙ্গল জোয়াল কাঁধে নিয়ে জমিতে হাল বাইতে যাইতাম। এখন ট্রাক্টর আইছে ভালাই অইছে। কিন্তু কৃষকদের মধ্যে যে হুজুগ ও বন্ধন ছিলো, তা আর নাই। যেনু ট্রাক্টর যাবার পারে না সেখানে হাল বাওনের জন্য নাঙ্গলটা রেখে দিছি। এখন হালের গরু প্রচলন না থাকায় হাতেই নাঙ্গল টানতে হয়।


গোপালপুরে হাটে কাঠের পণ্য ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, 

এক সময় লাঙ্গলের অনেক চাহিদা ছিল তাই নিয়মিত হাটে বিক্রি করতাম, এক লাঙ্গল এর কোন চাহিদাই নাই।হঠাৎ হাতেগোনা ২/১জনে চায়, তাই লাঙ্গল আর আনি না। 


অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দিদারুল ইসলাম বলেন, গরু দিয়ে হালচাষ গ্রামীণ সমাজের কৃষকদের ঐতিহ্য ছিল, অনেকে হালচাষ করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে লাঙ্গল আজ বিলুপ্তির পথে। কৃষকরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলায়, ঐতিহ্য ধরে রাখা এখন প্রায় দুরূহ।  

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী ওরা

ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী ওরা

.

মো. রুবেল আহমেদ 

ছাগল পালন করে কিভাবে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন, টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরের বসুবাড়ীর বাসিন্দা শিল্পী রানী (৪৫) এবং হাটবৈরান গ্রামের আন্না বেগম (৩২) সেই চিত্র উঠে এসেছে আজকের অনুসন্ধানে।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৪ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উন্নত জীবনের সন্ধানে (উষা) থেকে বিনামূল্যে ১টি মাঝ বয়সী ছাগল এবং ছাগল পালনের প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন, বসুবাড়ীর বাসিন্দা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অমল চন্দ্র । উন্নত জাতের যমুনা পাড়ি ছাগল (রাম ছাগল)টি অমল চন্দ্র ও তার সহধর্মিণী শিল্পী রানী সযত্নে লালন পালন করেন। সেই ছাগলটি প্রথম বছর ১টি বাচ্চা দিলেও পরেরবার একাধিক বাচ্চা দেয়। 

এভাবেই বংশ বিস্তার করে এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি ছাগল জন্ম নেয়। এর থেকে ১৪-১৫টির মতো ছাগল দেড় লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করে, ৬টিনের ছাপড়া ঘর থেকে বড় ৪চালা টিনের ঘর দিয়েছেন তারা। অমল চন্দ্র ৭মাস আগে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন।

শিল্পী রানী বলেন, শেষ সম্বল হিসাবে রেখে গেছেন ৩টি ছাগল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০হাজার টাকা। কয়েকটি ছাগল অসুখে মারা গেছে। 


একই সংস্থা থেকে ২০২২সালে ১টি ছাগল পেয়েছিলেন, হাটবৈরান গ্রামের ভ্যান চালক শাহআলমের স্ত্রী আন্না বেগম।

এপর্যন্ত ৪টি ছাগল বিক্রি করেন, সাথে কিছু টাকা যোগ করে ১টি উন্নত জাতের বকনা গরু কিনেছেন। ২টি ছাগল অসুখে মারা গেছে এবং এখনো ১টি খাসি রয়ে গেছে। যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫হাজার টাকা। 

আন্না বেগম বলেন, আমার এক মেয়ে ৭ম শ্রেণী ও আরেক মেয়ে ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। ১টা ছাগল রেখে দিয়েছি, তাদের পড়ালেখার জন্য টাকার দরকার হলে এটি সহায়ক হবে।


জানা যায়, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন(বিএনএফ) এর অর্থায়নে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিশেষ জরিপ পরিচালনা করে দরিদ্র পরিবারের সন্ধান করেন উন্নত জীবনের সন্ধানে (উষা)। দরিদ্রদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০০টি সেলাই মেশিন এবং প্রতিবছর ছাগল বিতরণ করে আসছে।


উষা'র নির্বাহী পরিচালক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, দারিদ্র্যতা দুর করে মানুষকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট করা হয়। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউএনও, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য খাসি উপহার দিলেন আমেরিকা প্রবাসী

এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য খাসি উপহার দিলেন আমেরিকা প্রবাসী

এতিমখানার শিক্ষার্থীদের খাওয়ার জন্য খাসি ছাগল উপহার দিলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুশুয়া ভিল এর প্রতিষ্ঠাতা ও আমেরিকা প্রবাসী মাসুম মাহবুবুর রহমান। 

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টায়, গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের মজিদপুর নূরিয়া নিজামিয়া কওমী মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য; প্রতিনিধির মাধ্যমে ১৪হাজার টাকা মূল্যের খাসি ছাগলটি পৌঁছে দেন। 

অত্র এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপহারটি গ্রহণ করেন। পরে আমেরিকা প্রবাসী মাসুম মাহবুবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন। 


উল্লেখ্য, চর শুশুয়া গ্রামের সাবেক যুগ্ম সচিব বাহাজ উদ্দিনের জৈষ্ঠ্য পুত্র, আমেরিকা সিটিজেন মাসুম মাহবুবুর রহমান হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএ'র সিইও হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমান, মায়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ছাড়াও, সারাবিশ্বে পিছিয়ে পরা মুসলমানদের উন্নত জীবন গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগদান করেন।

এছাড়াও নাড়ির টানে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুশুয়া ভিল এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা, বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। 

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪

গোপালপুরে শুশুয়া ভিল এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

গোপালপুরে শুশুয়া ভিল এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি


"বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, গাছ কাটলে সর্বনাশ। সকল মানুষ, পশুপাখি, অক্সিজেনে বেঁচে থাকি" স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুশুয়া ভিল এর উদ্যাগে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নগদাশিমলা ইউনিয়নের মাইজবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়কের দু'পাশে নিম, কৃষ্ণচূড়া, চালতা,তাল, কাঠ বাদাম গাছের চারা 

রোপন করা হয়। এবং প্রতিটি গাছের চারা শক্ত খুঁটিতে বেঁধে দেওয়া হয়। শুশুয়া ভিল এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, আমেরিকা প্রবাসী এলিজা সুলতানার পরিকল্পনা ও অর্থায়নে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রবিবার (৩নভেম্বর) বিকাল ৪টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও এসিল্যান্ড মো. নাজমুল হাসান।  উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি ও নগদাশিমলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক সন্তোষ কুমার দত্ত, শিমলা জামিরুন্নেছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়নাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শুশুয়া ভিল এর প্রতিষ্ঠাতা মাসুম মাহবুব জানান, মানবকল্যাণে শুশুয়া ভিল অতিতের মতো আগামীতেও কাজ করবে।

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৪

প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকিয়ে রেখেছেন মুদ্রাক্ষর টাইপিং

প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকিয়ে রেখেছেন মুদ্রাক্ষর টাইপিং

 

মো. রুবেল আহমেদ. 

যখন ছিলোনা কম্পিউটার, প্রিন্টার মেশিন। খট খট শব্দে টাইপিং করা মুদ্রাক্ষরের জনপ্রিয়তা ছিল তখন তুঙ্গে। বিভিন্ন আবেদন, সরকারি অফিসের নথিপত্র, স্কুল-কলেজের প্রশ্নপত্র, চিঠি লেখার কাজে ব্যবহৃত হতো মুদ্রাক্ষর মেশিন। কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে, গুরুত্বহীন হয়ে যায় মুদ্রাক্ষর শিল্প।


শত প্রতিকূলতার মাঝে মুদ্রাক্ষরিক পেশা টিকিয়ে রেখেছেন মো. মজিবর রহমান (৫০)।  টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার, হাদিরা ইউনিয়নের মাহমুদপুর বাজারের, গ্রামীণ ব্যাংকের গেইটে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৮-১০পর্যন্ত ২ঘন্টা, খোলা আকাশের নিচে বসে টাইপিং করেন তিনি। স্থানীয়দের হাতেগোনা ২/১টা কাজ করার পাশাপাশি। জমি বন্ধক রাখার স্ট্যাম্প কিনে, নাম ঠিকানার ঘর ফাঁকা রেখে টাইপিং করে সাইকেলে চড়ে গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকানে বিক্রি করেন তিনি। এতে তার দৈনিক আয় হয় ৮০-১০০টাকা।


সরেজমিনে জানা যায়, মুশুর্দী ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদের মেঝ ছেলে মজিবর রহমান। তিনি ১৯৮৬সালে ধনবাড়ী মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইসএসসি) পাশ করেন। এরপর ঢাকাতে টিউশনি শুরু করেন। একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে কলা বিক্রি শুরু। সেখানেই একজনের অনুরোধে ১৯৯৪সালে মুদ্রাক্ষরিক কাজ শিখেন। এরপর ১৯৯৭সালে নিজের মেশিন নিয়ে বসেন আদমজীতে। 

আদমজীর সেই গৌরব হারানোর পর বাড়ি ফিরেন তিনি। 

এসব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে স্থানীয়রা তাকে পাগল বলে সম্বোধন করায়, বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেনি বলে জানান তিনি।


মো. মজিবর রহমান বলেন, বর্তমান মেশিনটি ২০১৯ সালে ১৫হাজার টাকায় ঢাকা থেকে এনেছি। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে চা খরচ চলে যায়। সংসার না থাকায় তেমন চিন্তা করতে হয়না। ব্যাপক চাহিদার পেশাটির গৌরব হারানোয় আফসোস করেন তিনি। এটা যন্ত্রপাতি পেতেও বেগ পেতে হয় এবং উচ্চ মূল্যে কিনে আনতে হয়।


জনতা পেপার হাউজের মালিক আ. সালাম খান  বলেন,  ৯০এর দশকে মুদ্রাক্ষরের ব্যাপক চাহিদা ছিল। খাদ্য গুদামের সামনে হক সাহেবের দোকানে ৫টি মেশিন ছিল। ওখানে সবসময় ভীড় লেগেই থাকতো। কম্পিউটার প্রচলনের পর এসব গোপালপুর থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এখলাস মিয়া বলেন, এদের সহযোগিতার জন্য এখন এরকম কোন কিছু নাই, তবে ভবিষ্যৎ এরকম কিছু এলে তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

চরের শস্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে দরকার প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি

চরের শস্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে দরকার প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি


মো. রুবেল আহমেদ

বর্ষাকালে যমুনা নদীর স্রোতের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন অনেকটাই কঠিন। 

নদীর একুল গড়ে তো ওপার ভাঙ্গে। ধু ধু বালুচরে নানা প্রতিকূলতায় বেঁচে থাকা, চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় অনেকটাই পিছিয়ে। প্রতিকুলতার কারনে ভালো মানের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের চরাঞ্চলের প্রতি অনীহা পুরনো। নদী অববাহিকায় জেগে উঠা চরাঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সমতলের কৃষকরা ধান, পাট, সরিষা চাষাবাদে সীমাবদ্ধ থাকলেও । টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার একটি অংশ এবং ভুঞাপুর উপজেলার বৃহৎ অংশ যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা; নানান প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে উৎপাদন করে সব ধরনের শাক সবজি ও শস্য। যমুনা নদীর চরের বেলে মাটিতে বাম্পার ফলন হয় ধান, পাট, সরিষা, বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, তিল, তিষি, কাউন। খেসারি, মশারি, মাস কালাই, মুগসহ বিভিন্ন রকমের ডাল। জিরা ব্যতিত পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, আদা, কালো জিরা, ধনিয়াসহ সবধরনের মশলা। গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে বিভিন্ন জাতের ঘাস এবং তামাক পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থকরী ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও চরাঞ্চলের কৃষকদের গবাদিপশুর লালনপালনে সফলতা চোখে পড়া মতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের ৩মাস পানির নিচে ডুবে থাকা চরাঞ্চল জাগলে, শুরু হয় ধান, বাদাম, ভুট্টা লাগানোর তোরজোর। চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষে ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

শীত মৌসুমে, ফলে সব রকমের শাকসবজি, ডাল এবং মসলা।  বসন্তে শুরু হয় পাট, তিল, তিসি বুননের তোড়জোড়। 

ইদানিং ক্যাপসিকাম চাষেও ঝুঁকছে তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ফসলের বাম্পার ফলন হয় চরের বালু মাটিতে। অতি খরা এবং শৈত্যপ্রবাহে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। হাত বাড়ালেই মিলে না সার, বীজ, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ। এসবের জন্য যেতে হয় নলিন হাট, গোবিন্দাসী হাট এবং ভুঞাপুর শহরে। চরাঞ্চলে সেচ সঙ্কট একটি বড় সমস্যা।

দুর্গম চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক, নৌকার উপর নির্ভরশীল। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল চর শুশুয়া, সোনামুই, নলিন,পিংনা গোবিন্দাসীসহ চরের কয়েকটি হাটে স্বল্প দামেই বিক্রি করে থাকেন। এতে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররাই বেশি লাভবান হয়।


চরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকারের উচিৎ চরাঞ্চলের কৃষির প্রতি বিশেষ নজর রাখা। কৃষিতে ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা বাড়ানো। সমতলের কৃষি এখন অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর। এদিক থেকেও চরের কৃষকরা অনেক পিছিয়ে। চরাঞ্চলের কৃষিতে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বিপণন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা। 



শুশুয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোমিনুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ভর্তুকি মূল্যে সার, বীজ প্রদান করার পাশাপাশি। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে । কালাই মাড়াই, ভুট্টা মাড়াই মেশিনসহ কৃষি প্রযুক্তির সরবরাহ বাড়াতে হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪

নীতি নির্ধারণে কৃষকের সম্পৃক্ততা থাকুক

নীতি নির্ধারণে কৃষকের সম্পৃক্ততা থাকুক


মো. রুবেল আহমেদ.

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে কৃষকের রয়েছে অসামান্য অবদান। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে, হাড়ভাঙা পরিশ্রমে কৃষকের অসামান্য অবদানের জন্যই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে বাংলাদেশ। পেঁয়াজ উৎপাদনে পিছিয়ে থাকলেও। ধান, ফলমূল, শাকসবজি, দুধ,মাছ, মাংস এবং অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের কৃষকেরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিদিন জোগান দিচ্ছেন ১৮কোটি মানুষের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ ও আহারের। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যেই কৃষকের এতো অবদান। সেই কৃষককে রাখা হয় না রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে। কেউ কাছে থেকে জানতেও চায় না, কৃষকের সুবিধা-অসুবিধার কথাগুলো। অতীত বা বর্তমানের সরকারে ব্যবসায়ী, শ্রমিকনেতা, ধর্মীয় নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও। কখনোই একজন কৃষককে সরাসরি সরকারের অন্তর্ভুক্ত করার নজির নেই। বিষয়টি হতে পারে শিক্ষিত/অশিক্ষিতের বা গায়ে লেগে থাকা ঘামের গন্ধের। তাই বলে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষককে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারন রাজধানীতে উঁচু তলায় বসবাস করা মানুষের শেকড় বাকড় খুঁজলে অবশ্যই পাওয়া যাবে কৃষকের সম্পৃক্ততা। আর বর্তমানে উচ্চ শিক্ষিত অনেক যুবক স্বাবলম্বী হতে কৃষি বা খামারে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

উদাহরণ স্বরূপ যদি বলি, টাঙ্গাইলের গোপালপুর একটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। বছরে ২বার ধান চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হয় এখানে। স্থানীয়রা কৃষকেরা বরাবরই অভিযোগ করে আসছে বীজ, কীটনাশক, সার কেনা এবং শ্রমিকের উচ্চ মূল্যের কারণে; চাষাবাদের খরচ সাথে উৎপাদিত ফসলের মূল্যের ঘাটতি দেখা দেয়। তবুও কৃষক নিজের প্রয়োজন ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে চাষাবাদ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সারাদেশেই, বিগত কয়েক বছর ইরি মৌসুমে ব্রি২৮-ব্রি২৯ জাতের ধানে ব্লাষ্টের আক্রমণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বন্যা, বর্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গনমাধ্যমে প্রচারিত কৃষি ভিত্তিক ২/১টা অনুষ্ঠান ছাড়া, কৃষকের সুবিধা-অসুবিধার কথা সরাসরি শোনার উপায় নেই। সমস্যা চিহ্নিত করে, খাদ্যেশস্যর উৎপাদন আমদানিমুখী থেকে রপ্তানিমুখী করতে। রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে সরাসরি কৃষকের সম্পৃক্ততা দরকার। 

যেহেতু দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনে একটা সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। উপদেষ্টাদের বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি বিভিন্ন খাতে সংস্কার আসবে। তাই আগামীতে কৃষি ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে। সরাসরি মতামত জানানোর সুযোগ করে দিতে, কৃষকের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী হতেই পারি।



বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

শ্রমিক সংকটের আশির্বাদ ধান কাটার মেশিন

শ্রমিক সংকটের আশির্বাদ ধান কাটার মেশিন

মো. রুবেল আহমেদ

বিস্তীর্ণ মাঠে শোভা ছড়ানো বোরো মৌসুমে উৎপাদিত, পাকা ধান‌ উৎসবমুখর পরিবেশে ঘরে তুলতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয় শ্রমিক সংকট। তীব্র তাপদাহ, ঝড়-বৃষ্টির সময় ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিলে; যেমন বেড়ে যায় শ্রমের মূল্য। তেমনি নষ্ট হয় পাকা ধান ও গোখাদ্যের খড়। এসব সমস্যার সমাধানে কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকের জন্য আশির্বাদ হয়ে উঠছে। সরকারিভাবে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধান কাটার মেশিন কম্বাইন হার্ভেস্টারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের বলে জানান কৃষি বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি ধান কাটার মেশিন ২৪ঘন্টায় চার থেকে পাঁচশ বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম। ডিজেল খরচ হয় মাত্র ১৪-১৫লিটার । কম্বাইন হার্ভেস্টার দ্রুত ধান কেটে, মাড়াই করে একবারে বস্তায় তুলে দেওয়ায় সাশ্রয় হচ্ছে কর্মঘন্টা। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। 


নবগ্রামের কৃষক মো. দুলাল মিয়া বলেন, মেশিনে ধান কাটায় কিছুটা ধান-খড় নষ্ট হলেও এটাই সাশ্রয়ী। একদিকে বৃষ্টি মৌসুমে, এসময় কামলা(শ্রমিক) পাওয়া যায়না, অথচ মেশিনে মুহূর্তেই ধান কেটে দিলো।


হেলেন্চা বিলে ধান কাটতে আসা কম্বাইন হার্ভেস্টারের চালক আ. ছালাম বলেন, আমার মালিকের দুটি মেশিন নিয়ে কুমিল্লা থেকে আমরা এখানে এসেছি। ৭৫টাকা শতাংশ ধান কাটায় কৃষকের ব্যাপক আগ্রহ দেখেছি।আমার মালিক সরকারিভাবে ভর্তুকি মূল্যে মেশিন কিনেছে, কুমিল্লায় ধান কাটা শেষে আমরা এখানে এসেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, দ্রুত ধান কাটার ফলে কম্বাইন হার্ভেস্টারের প্রতি কৃষকের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। শ্রমিক দিয়ে ১বিঘা জমির ধান কাটতে ৫হাজার টাকার উপরে খরচ হয়, কম্বাইন হার্ভেস্টারে ২৫০০টাকা খরচ হয় বিঘাপ্রতি। ২০২৩-২৪ সালে আমরা ভর্তুকি মূল্যে ১১টি কম্বাইন হার্ভেস্টার বিতরণ করেছি। মৌসুমের আগে প্রকল্প থেকে সার্কুলার হলে। কৃষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএনও মহোদয়ে সাক্ষরে আবেদন পাঠাই। প্রকল্প থেকে অনুমোদন হয়ে আসলে ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হার্ভেস্টার দেয়া হয়।


রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

স্বপ্নপূরণে আরো একধাপ এগিয়ে যমজ ভাই

স্বপ্নপূরণে আরো একধাপ এগিয়ে যমজ ভাই

মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)

স্বপ্নপূরণের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন একই দিনে জন্ম নেওয়া দুই ভাই ইমতিয়াজ রহমান তমাল ও ইশতিয়াক রহমান হিমেল একসাথে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে হতে চান ইঞ্জিনিয়ার।

 উভয়েই এবার টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সূতি ভিএম পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। 

ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই গ্রামের মতিয়ার রহমান ও তাহমিনা আকতার দম্পতির ২০০৮সালের ১সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া, জমজ মেধাবী পুত্র তমাল ও হিমেল নন্দনপুর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮সালে পিএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং উভয়েই প্রাথমিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ৩টি করে বৃত্তি লাভ করে। করোনার কারনে দিতে পারেনি জেএসসি পরীক্ষা। উভয়ের নেতৃত্বে বিজ্ঞান মেলায় সূতি ভিএম পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় একবার জেলায় শ্রেষ্ঠ, আরেকবার উপজেলায় শ্রেষ্ঠ হয়। এছাড়াও স্কাউট জাম্বুরীতে জমজ দুই ভাইয়ের রয়েছে বিশেষ অবদান।

বাবা মতিয়ার রহমান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী, মা তাহমিনা আকতার লক্ষীপুর-সাফলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক ।

বাবা-মা উভয়েই জানান, ছেলেদের পড়াশোনার প্রতি ব্যাপক ঝোঁক রয়েছে,বাজে আড্ডা এবং মোবাইলে আকৃষ্ট নন।  হিমেল পেয়েছে ১১৫৭ নাম্বার ও তমাল পেয়েছেন ১১৪৮ । দুজনের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার আগ্রহ রয়েছে, তাই আমরাও তাদের সেভাবেই সু্যোগ করে দিবো। ভালোভাবে পড়াশোনা করে ওরা যেন দেশের মুখ উজ্জ্বল করে এটাই প্রত্যাশা।

সূতি ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান বলেন, তমাল ও হিমেল আমার স্কুলের নিয়মিত ছাত্র। দুজনের রেজাল্ট সবসময় প্রায় একই রকম হতো। তারা অনেক ভালো ছাত্র, দুই ভাই একসাথে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমিও অনেক আনন্দিত।

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪

ঢেঁকি আর ধান ভানে না

ঢেঁকি আর ধান ভানে না


মো. রুবেল আহমেদ.

'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে' এই কথাটার যখন উৎপত্তি হয়েছিল, তখন গ্রামগুলোর বিভিন্ন বাড়িতে ছিলো ঢেঁকিতে ধান ভানার প্রচলন। ঢেঁকি প্রধানত ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বানানো কাঠের তৈরি কল বিশেষ। নব্বইয়ের দশকের আগেও টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বিভিন্ন গ্রামের ঝি,বউদের আতংকের নাম ছিল ঢেঁকি। বাড়ির বউরা সবসময় আতংকে থাকতো কখন যেনো শ্বাশুড়ি ধান ভানার আদেশ দেন। বাড়ির পিঠা পুলির জন্য চালের গুঁড়া ঢেঁকির দিয়েই প্রস্তুত করা হতো। গ্রামের বৃদ্ধাদের থেকে ঢেঁকির ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন গল্প এখনো শোনা যায়।

কাঠের তৈরি ঢেঁকির সঙ্গে ফসলের সম্পর্ক দিয়ে সূচিত হয়েছিল প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস। ঢেঁকি মূলত পরিচালনা করতেন তিনজন নারী। দুজনে খানিকটা উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে পা দিয়ে ঢেঁকিতে পাড় দেয়। একজন মাটিতে বসে নোওট (মুষল) এর নীচে ধান বা চাল ওলটপালট করে দেয়। যাতে ধানের খোলস ভেঙে চাল বেরিয়ে আসে।  এক সময় নতুন ফসল তোলার পরে প্রতিটি পাড়ায় ঢেঁকির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠতো। কালের পরিক্রমায় নব্বয়ের দশকে ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিনে ধান ভাঙ্গানো শুরু হলে, ঢেঁকিতে ধান ভানার প্রচলন কমতে থাকে।  এরপর বৈদ্যুতিক চালিত মোটরের এবং শ্যালোমেশিনের ভ্র্যাম্যমান ধান ভাঙ্গানোর কল প্রতিটি গ্রামে বাড়তে থাকে। এখন ঢেঁকিতে ধান ভানার প্রচলন একেবারেই নেই বললেই চলে।

গবেষণা অনুযায়ী, এক কাপ ঢেঁকিছাঁটা চালে ৭৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। বিপরীতে কলে ভাঙানো চালে থাকে মাত্র ১৯ মিলিগ্রাম। ঢেঁকিছাঁটা চালে পটাশিয়াম থাকে ১৭৪ মিলিগ্রাম, আর কলে ভাঙানো চালে থাকে ৫৫ মিলিগ্রাম। ঢেঁকিছাঁটা চালে ৩ গ্রাম ফাইবারের বিপরীতে কলে ভাঙানো চালে ফাইবার একেবারেই থাকে না। এক কাপ ভাতে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার শতকরা ৮০ ভাগ ম্যাঙ্গানিজ থাকে। ম্যাঙ্গানিজ আমাদের স্নায়ু ও প্রজননতন্ত্রের কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

মির্জাপুর গ্রামের জাহানারা বেগম(৫৫)জানান, নতুন বউ অবস্থায় থাকতেই ভোর রাতে উঠে ঢেঁকিতে ধান ভানা চালে হতো সকালের ভাত রান্না। সেগুলো খেয়েই বাড়ির পুরুষ মানুষরা ভোরবেলায় বেরিয়ে পড়তো মাঠের কাজের জন্য। 

চতিলা গ্রামের পরিবেশপ্রেমী ডা. আবু সাঈদ বলেন, আমার বাড়িতে এখনো পুরনো ঢেকির অংশ রয়েছে। মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান থেকে চাউল বানানো যায় এবং সাশ্রয়ী হবার কারণেই ঢেঁকিতে ধান ছাঁটার প্রচলন কমতে থাকে। ঢেঁকিতে ছাঁটা লাল চালে ভিটামিন বি২ থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।



বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

ঈদ উপলক্ষে যমুনা চরের শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক ও খাদ্য বিতরণ

ঈদ উপলক্ষে যমুনা চরের শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক ও খাদ্য বিতরণ


মো. রুবেল আহমেদ 

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনালের (এইসসিআই) সহযোগিতায় ও এনজিও সুশীলনের বাস্তবায়নে, টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর দুর্গম চরের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসাবে পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 


বুধবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় চর শুশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভুঞাপুর ও গোপালপুরের বিভিন্ন চরের ৮৯জন শিশু শিক্ষার্থী(নারী)কে নতুন জামা, হিজাব, জুতা এবং খাদ্য সামগ্রী সোয়াবিন তেল ২কেজি, সেমাই ৪প্যাকেট, চিনি ১ কেজি,কনডেন্স মিল্ক ২ কৌটা, কিসমিস ২৫০ গ্রাম, চিনাবাদাম ৫০০ গ্রাম, মশলা (এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, গোল মরিচ), আদা ৫০০ গ্রাম, রসুন ৫০০ গ্রাম, লবন ১কেজি , পোলাও চাল ২কেজি, নুডুলস ১প্যাকেট, ছোলা ১কেজি করে বিতরণ করা হয়। 


শুশুয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন অবঃ যুগ্ম সচিব আলহাজ্ব মো. বাহাজ উদ্দিন মিঞা। আরো উপস্থিত ছিলেন সুশীলনের সিএসপি'র মনিটরিং, ইভালিয়েশন এন্ড ডকুমেন্টশন অফিসার কাজী ফয়সাল কবির, মাষ্টার ট্রেইনার সৈয়দা ফাতেমা-তুজ-জান্নাতী ও অভিভাবকবৃন্দ। তত্ত্বাবধানে ছিলেন সুশীলন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সুশীলনের উপ-পরিচালক মোস্তফা বকুলুজ্জামান।


সুশীলনের প্রতিনিধি কাজী ফয়সাল কবির জানান, এখন থেকে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সুশীলন নিয়মিত কাজ করে যাবে। হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় এই প্রজেক্ট চরাঞ্চলে আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএ'র সিইও মাসুম মাহবুবুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ পেয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে চরাঞ্চলের মানুষের বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। সেই তাগিদে হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল, তাদের জীবনমান উন্নয়নে এনজিও সুশীলনের সহায়তায় কাজ করে যাবে।

সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪

গোপালপুরের সিয়াম ইউটিউব দেখেই জেট বিমান বানালেন

গোপালপুরের সিয়াম ইউটিউব দেখেই জেট বিমান বানালেন

মো. রুবেল আহমেদ

শুধুমাত্র ইউটিউব দেখেই যুদ্ধ বিমানের আদলে রিমোট কন্ট্রোল বিমান বানিয়ে এবং উড়িয়ে, সবাইকে চমক  দেখিয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাট বৈরানের বাসিন্দা কৃষক হাবিবুর রহমানে পুত্র মো. সিয়াম (১৫). সে স্থানীয় সুতি ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই কারিগরি কাজের প্রতি ব্যাপক ঝোঁক মো. সিয়ামের। পিতার মোবাইল দিয়ে ইউটিউবে বিমান বানানো দেখেই ইচ্ছা জাগে বিমান বানানোর। ৫বছর ধরে এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, সে অনুযায়ী অনলাইন শপের মাধ্যমে এবং সশরিরে ঢাকা থেকেও যন্ত্রপাতি কিনে আনেন টিফিনের বাঁচানোর পয়সায় । এমন কাজে উৎসাহ দেখে তার বাবাও আর্থিক জোগান দিতে থাকে। ককসিট, মোটর, পাখা ও কয়েকটি সার্কিট ব্যবহার করে, আমেরিকান যুদ্ধ বিমান এফ২২ র‍্যাপ্টরের আদলে বানানো বিমানটির নাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু এফ২২ র‍্যাপ্টর। বিমানটি নিয়ে রবিবার উপজেলায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা- ২০২৪ এ অংশ নিতে হাজির হলেও, বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আগে থেকেই নাম না দেয়ায় প্রতিযোগিতায় জায়গা হয়নি তার। পরবর্তীতে গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালে, প্রতিযোগিতায় নাম না উঠলেও; উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিমানটি শুধুমাত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।
মো. সিয়াম জানান, পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা পেলে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ড্রোন বানানোসহ, ক্যামেরা লাগিয়ে শতমাইল দূরে নজরদারি বিমান বানিয়ে দেশকে সহযোগিতা করতে পারবেন। সরকার সুযোগ করে দিলে যুদ্ধ বিমান বানানোর কাজে সহযোগিতা করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান। বিমানটি বানানোর পর বাড়ির আঙ্গিনায় সাময়িক উড়ানো হলেও,গবেষণার জন্য উড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতেও সহযোগিতা কামনা করেন। কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক কাজে পারদর্শীতার কথা অনেক আগেই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে জানিয়েছেন, তিনি তাকে অগ্রাহ্য করে এড়িয়ে গেছেন। ঐ শিক্ষক কতৃক মেধা অবমূল্যায়নের কারনেই, বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা- ২০২৪ এ স্থান পাননি।

সিয়ামের পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমি কৃষক মানুষ এতো কিছু বুঝিনা। ওর এসব কাজের প্রতি আগ্রহ দেখে টাকা চাইলে চেষ্টা করতাম টাকা দিতে। সরকার যদি ওরে সহযোগিতা করে ও ভবিষ্যৎ এ দেশের কাজে লাগায় এটাই আমার চাওয়া।

সুতি ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান বলেন, সিয়াম এব্যাপারে আমাকে আগে কিছু জানায়নি। আজকে ওর মেধা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছি। ওর প্রতিভার কথা এমপি ও ইউএনও মহোদয়কে জানাবো। আজ থেকে ওর গবেষণায় যা দরকার হবে বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হবে এবং আর্থিক সহায়তার জন্য ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, গ্রামের মানুষ হলেও সিয়ামের প্রতিভা দেখে আমি বিস্মিত, ওর বানানো জেট বিমানটি চমৎকার লেগেছে। নিজের টাকায় এরকম একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে ও যে সার্থক হয়েছে এটি আমার কাছে আজব লেগেছে ‌। লোকাল প্রশাসনের সাথে কথা বলে ওকে আর্থিক সহায়তা করার চেষ্টা করবো।


বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪

৭১দিনে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে গোপালপুরের শিশু নাফিসের চমক

৭১দিনে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে গোপালপুরের শিশু নাফিসের চমক

মো. রুবেল আহমেদ.

মাত্র ৭১দিনে ৩০পারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নগদা শিমলা ইউনিয়নের উত্তর বিলডগা গ্রামের বাসিন্দা, মো. নজরুল ইসলাম ও মোছা. নাসিমা আক্তার দম্পতির ৯বছর বয়সী মেধাবী ছেলে আবীর ইসলাম নাফিস।

জানা যায়, অত্যন্ত মেধাবী নাফিস ২০২৩সালের ডিসেম্বর মাসে; জামতৈল দারুল কোরআন মাদরাসা থেকে মাত্র ১৬দিনে নাজেরা সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম দিন হতে সেখানেই হিফজ পড়া শুরু করেন। ১৫দিন মাদরাসায় থাকা অবস্থায় শারীরিক নানা অসুস্থতা দেখা দিলে, বাসায় ফিরে জামতৈল দারুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের হোসাইন এবং গোপালপুরের বারিধারা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতী মাসুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে, মার্চের ১১তারিখ ৩০পারা পবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্থ করে হিফজ সম্পন্ন করেন।

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অত্যন্ত মেধাবী আবীর ইসলাম নাফিস ২০২৩সালে নূরানী তা'লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম অধীনে ৩য় শ্রেনীর পরিক্ষায় সারাদেশের ৬লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ম স্থানে উত্তীর্ণ হন। এছাড়াও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর নূরানী বৃত্তি পরিক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত হন।

তার পিতা মো. নজরুল ইসলাম নলিন নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মাতা মোছা. নাসিমা আক্তার গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদরাসার ইংরেজি প্রভাষক।


জামতৈল দারুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের হোসাইন বলেন, নাফিসকে যেদিন আমার কাছে নিয়ে আসা হয়, সেদিন ওর মেধা দেখে মুগ্ধ হই। ওর মেধা সবার চাইতে ভিন্ন, ওর মেধার দ্বারা একদিন সারাদেশে সুনাম কুড়াবে।


গোপালপুরের বারিধারা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতী মাসুদুর রহমান রহমান বলেন, ওর তীক্ষ্ণ মেধাশক্তির প্রতি আমাদের আস্থা ছিল। ওর মেধায় মুগ্ধ হয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় আমরা ২জন ওস্তাদ নিয়মিত বাসায় এসে পড়াতাম। মাত্র ৭১দিনে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে আমাদের অবাক করে দিয়েছে।


মাতা মোছা. নাসিমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে পড়াশোনায় সবার চাইতে ভিন্ন। ওর মোবাইল গেমসের আসক্তি নেই, তবে সাধারণ খেলাধুলায় পারদর্শী। 

এই বয়সে বই পড়ায় ব্যাপক পটু। ধর্মীয় বই পড়া ও ধর্মীয় ইতিহাস জানার প্রতি ওর আগ্রহ বেশি। 


পিতা মো. নজরুল ইসলাম নলিন বলেন, আমার ছেলে যেহেতু দ্রুততম সময় মাত্র ৭১দিনে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করতে পেরেছে, ভবিষ্যতে একজন বড় মাপের আলেম বানানোর ইচ্ছা রয়েছে।