film লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
film লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

নায়িকা পপির স্বামী কি জাহাজ ব্যবসায়ী ?

নায়িকা পপির স্বামী কি জাহাজ ব্যবসায়ী ?

আবার খবরের শিরোনাম চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। এর আগে পপি সন্তানের মা হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছিল। তবে নায়িকা পপির স্বামী কে, কবে সন্তান হলো, তারা কোথায় থাকেন, তা কেউ বলতে পারেনি। স্বামী নিয়ে আবারো খবরের শিরোনাম হয়েছেন নায়িকা পপি। পারিবারিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে এবার বলা হচ্ছে, আদনান কামাল নামের এক জাহাজ ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছেন পপি। তাদের সংসারে আয়াত নামে দুই বছর বয়সি সন্তানও রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত পপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পপির কথিত স্বামী আদনান কামাল বুধবার একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, পপির সঙ্গে তার বিয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। কোনো মহল তার বিরুদ্ধে ছড়াচ্ছে।

আদনান বলেন, ‘পপির সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল সারা দিন আমার কাছে কয়েক হাজার ফোন এসেছে। আমি বিরক্ত। আমাকে এসব করে রীতিমতো ভাইরাল করে দিয়েছে। আমার ওয়াইফও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছে।

নিজেকে পুরান ঢাকার বাসিন্দা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় মানুষের ইজ্জত–সম্মান অনেক বড় জিনিস। কাউকে ছোট করে কেউ কখনো বড় হতে পারেন না। যে সাংবাদিক লিখেছেন, তাকে আমি বকা দেব না। তার মা-বাবা কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়ে সাংবাদিক বানিয়েছেন। সম্মানজনক একটা পেশায় কাজ করছেন তিনি। কিন্তু তিনি তো এভাবে না বুঝে লিখতে পারেন না। নিশ্চিত না হয়ে কারো ছবি এভাবে দেওয়া উচিত নয়। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, জেনে লিখুন। না জেনেও যদি লিখতে চান, তা–ও লিখুন। কিন্তু খারাপ লাগছে এটা দেখে, আপনারা আমার তিন সন্তানকে নিয়ে লেখালেখি করতেছেন, এটা খুবই কষ্টদায়ক।

পপিকে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আদনান বলেন, পপি ম্যাডাম আমাদের পারিবারিক বন্ধু। আমার ওয়াইফের বড় বোনের বন্ধু। ২০১৮ সালে আমার ছোটবোনের বিয়েতেও এসেছিলেন। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। আমাদের শো করেছেন। আমার ওয়াইফকেও জিজ্ঞেস করেছি, পপির সঙ্গে তাদের পরিচয় কবে থেকে। সে জানিয়েছে, ২০০৪ থেকে তাদের পরিচয়। বাসায় যাওয়া-আসা। তখন তো আমার বিয়েও হয়নি। আমার বিয়ে হয়েছে ২০১১ সালে।

পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, পপি ম্যাডাম কি কোথাও বলছেন, আমি তার হাজবেন্ড?’ 

তাহলে আপনার সঙ্গে বিয়ের কথা উঠল কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আদনান বলেন, আমার জীবনে এই ধরনের কথা কখনোই ওঠেনি। পারিবারিক বন্ধুত্বের কারণে পপি ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুর মতো। তিনি আমাদের বাড়িতে আসছেন, আমরা তার বাড়িতে গেছি। কিন্তু এটাকে এভাবে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমার তিন সন্তান। বড় মেয়ে আদিবা, ছোট মেয়ে আজরীন ও ছেলে আলভী। আমার মনে হয়, সমাজে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই কাজ প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ীরা করছেন। আমার তিন–চারজনকে সন্দেহ হয়েছে। তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তারপর নামটা বলতে চাই।

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

একজন কণ্ঠরাজ নাজমুল হুসাইন

একজন কণ্ঠরাজ নাজমুল হুসাইন

ভালো থাকা হয় যেন!’- নব্বই দশকের প্রজন্ম রেডিও-র দিনগুলোতে এ লাইনের সাথে পরিচিত না এমন মানুষ কম মিলবে। প্রতিধ্বনি করতে করতে এ লাইনটা চলত। রেডিও-র বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় ১৫ মিনিটের বিভিন্ন ছবির কণ্ঠে অংশ নিতেন কণ্ঠরাজ নাজমুল হুসাইন।

১৯৫১ সালের ৩১ আগস্ট জন্ম নরসিংদী জেলার পাহাড়তলীতে। চলচ্চিত্রে পরিচয় সহকারী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, বিজ্ঞাপন কণ্ঠদাতা।


শৈশবে স্বপ্ন ছিল কৃষিবিদ হবার। তাঁর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড এ বিষয়ে অগ্রণী ছিল। পড়তেন জগন্নাথ কলেজে। একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর আপন মামা কিংবদন্তি পরিচালক খান আতাউর রহমান, ছোটমামা বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান খান আরিফুর রহমান এবং কাজিন তখনকার নায়িকা আতিয়া। আতিয়া-র উল্লেখযোগ্য ছবি ছিল ‘শনিবারের চিঠি।’


তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন ‘শব্দসৈনিক।’ নিজেকে এ পরিচয়ে পরিচিত করাতেই সবচেয়ে বেশি গর্বিতবোধ করতেন।

চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ শুরু করেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। বিশিষ্ট নাট্যকার মামুনুর রশীদের ‘আরণ্যক’ নাট্যদলে ছিলেন। অভিনয় করেছেন কালজয়ী কিছু নাটকে।


‘শ্রীলঙ্কান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন’ যা একসময় ‘রেডিও সিলন’ নামে পরিচিত ছিল সেই প্রোগ্রামটি নিয়মিত শুনতেন নাজমুল হুসাইন। কণ্ঠের জাদুকরী কারিশমা নিয়ে সেখানে হাজির হতেন আমিন সিয়ানী নামে একজন কণ্ঠদাতা। তাঁকে দেখেই তিনি অনুপ্রাণিত হতেন এবং নিজেও কণ্ঠচর্চা করতেন। স্বপ্ন যে তাঁরও সফল হবে তিনি তখনও জানতেন না।


১৯৭৫ সালটি তাঁর ক্যারিয়ারের বিশেষ বছর হয়ে আসল। এ বছর রেডিওতে চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হয়। ফোক-ফ্যান্টাসি ছবির সেরা নির্মাতা ইবনে মিজানকে একদিন নাজমুল হুসাইন ‘গোল্ডেন জুবিলি ডিরেক্টর’ বলে তাঁর ছবির প্রচারণা করতে থাকেন স্টুডিওতে। সেটা পরিচালকের নজরে আসে। তিনি বিষয়টা আমলে নেন এবং কণ্ঠ রেকর্ড করতে চান। যেই কথা সেই কাজ। পরে ছবির প্রচারণার জন্য এটা পাবলিক করা হলে দর্শক ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে। নির্ধারণ হয়ে গেল তার ক্যারিয়ারের নতুন মোড়। বিজ্ঞাপন কণ্ঠদাতা হয়ে তিনি সগৌরবে কাজ শুরু করলেন।


‘নয়ণমনি’ ছবির ১৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। ‘দি রেইন’ ছবির প্রচারণার সময় নাজমুল হুসাইনের নিজের আবিষ্কার করা টাইটেল ‘ফুজি কালার ট্র্যাজেডি’ সারাদেশে হিউজ রেসপন্স পায়। আড়াই মাস চলেছিল এ বিজ্ঞাপন। ১৯৭৮ থেকে রেডিওর পাশাপাশি টিভিতেও বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হয়। আজকে যেমন ‘ট্রেলার’ বলা হয় তখন বলা হত ‘কাটিং।’ ‘মিন্টু আমার নাম’ ছবির প্রথম কাটিং-এ তিনি কণ্ঠ দেন। ‘সাম্পানওয়ালা’ ছবিতে ৪৮ শব্দের বিজ্ঞাপন করা হয়। তখন প্রথমবার ছবিকে ‘বাণীচিত্র’ বলেন তিনিই। যশোরের মণিহার সিনেমাহলকে নিয়ে রেডিও বিজ্ঞাপন করা হয় তাঁর মাধ্যমেই। এটাও সম্পূর্ণ নতুন ছিল। তখনকার অন্যতম সেরা বাণিজ্যিক পরিচালক এ জে মিন্টু বিজ্ঞাপনের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। নাজমুল হুসাইন তাঁকে ‘বাণিজ্যিক ছবির মাস্টারমেকার’ উপাধি দিলে দর্শক এটাও ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে। এ জে মিন্টু তাঁর ‘সত্যমিথ্যা’ ছবির রজত জয়ন্তী উৎসবে নাজমুল হুসাইনকে সংবর্ধনা দেন।


১৯৮০-তে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ ছবিতে নাজমুল হুসাইন প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ‘সুজন সখি’ ছবির রিমেক ‘রঙিন সুজন সখি’-র প্রযোজক ছিলেন তিনি। রিমেকের অনুমতি নিতে তাঁকে পরিশ্রম করতে হয়েছে। রাইট নিতে গিয়ে ফারুক-কবরীর বিকল্প কে হবে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি সালমান শাহ-শাবনূরের জনপ্রিয়তার কথা বলেছিলেন। রিমেক করা হয় এবং ছবিটি বিপুলভাবে ব্যবসাসফল হয়।


এতদিন খুঁজেছি যারে পেয়ে গেছি আজ আমি তারে ‘হ্যাঁ পেয়ে গেছি আজ হেনোলাক্স কমপ্লেক্সন ক্রিম।’ ঠিক এভাবেই সোহেল চৌধুরীর লিপে ‘প্রিয়শত্রু’ ছবির গানটি ব্যবহার হত নাজমুল হুসাইনের হেনোলাক্স ক্রিমের বিজ্ঞাপনী কণ্ঠে রেডিওতে। ‘বেবী লজেন্স সঙ্গীতমালা, সুরে সুরে কেয়া সুপার বিউটি সোপ, হাঁসমার্কা নারিকেল তেল গানের দোলা, গানে গানে গন্ধরাজ সুগন্ধি কেশতেল, লক্ষীবিলাস হারবাল কেশতেল জলসাঘর, বোম্বে সুইটস চিপস আনন্দ সারাক্ষণ, লায়ন হাসপাতাল লটারি সঙ্গীতমালা, অভিযাত্রী সুরবিহার’ এরকম অনেক বিজ্ঞাপন তরঙ্গের অনুষ্ঠানে তিনি কণ্ঠ দিতেন। ‘গন্ধরাজ সুগন্ধি কেশতেল’ এর বিজ্ঞাপন তরঙ্গে তিনিসহ সহ-উপস্থাপনা করতেন মিতা গোমেজ। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের প্রচারের পাশাপাশি শ্রোতাদের অনুরোধের গান প্রচার করতেন, চিঠি পড়তেন, শ্রোতাদের পাঠানো কবিতা আবৃত্তি করতেন। মুক্তি প্রতীক্ষিত নতুন ছবির গান, সংলাপ প্রচার করা হত অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোতে। ঐ প্রচারণা তখন কী যে ব্যাপকভাবে কাজে লাগত সেটা একমাত্র তখনকার দর্শকরাই জানে।


তিনি অসংখ্য অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকদের উপাধি দিয়েছেন প্রথমবারের মতো। তাঁর হাত ধরেই সেগুলো পরিচিতি পেয়েছে। অসংখ্য উপাধির মধ্যে কয়েকটা বলা যায় :

শাবানা – বিউটিকুইন 

সোহেল রানা – ড্যাসিং হিরো 

ফারুক – সুপারস্টার 

ববিতা – ইন্টারন্যাশনাল ট্যালেন্ট 

কবরী – চার্মিং 

উজ্জ্বল – মেগাস্টার 

এ জে মিন্টু – মাস্টারমেকার 

ইবনে মিজান – গোল্ডেন জুবিলি ডিরেক্টর

১৯৯১ সালে নিজের বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ভাইব্রেশন টু’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বেশিরভাগ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হত এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। আবৃত্তিকার হিসেবেও তাঁর সুনাম আছে।


১৯৯৯ সালের পর অশ্লীলতা শুরু হলে তিনি আর নিয়মিত সেভাবে হতে পারেননি। তিনি মনে করতেন তাঁর কণ্ঠে ছবির প্রচার হয়ে দর্শক সিনেমাহলে গিয়ে অশ্লীল ছবি দেখবে এটা হতে পারে না। তবে অশ্লীলতার পর বা মাঝামাঝি ভালো কিছু ছবির প্রচারণা তিনি করেছেন রেডিওতে। যেমন – হৃদয়ের কথা, চাচ্চু, না বোলো না।


নাজমুল হুসাইন অভিনয়ও করেছেন কিছু ছবিতে। যেমন – মহানগর, যন্ত্রণা, সাহেব, অশান্তি, জামিন নাই, বর্তমান, আব্বাজান, ইতিহাস ইত্যাদি। তিনি নিজেকে অভিনেতা হিসেবে ‘নাথিং’ মনে করেন। এটা অবশ্যই তাঁর বিনয়। তাঁর অভিনয় ন্যাচারাল ছিল। ‘জামিন নাই’ ছবিতে কলেজ ফাংশনে শাবনূর ও মাসুদ শেখের মধ্যে উপস্থাপনার কাজ করেন তিনি। বিজ্ঞাপনের কণ্ঠের মতোই ছিল সেটি। চমৎকার। ‘যন্ত্রণা’ ছবিতে সরকারি আমলার ভূমিকায় ছিলেন। ‘ইতিহাস’ ছবিতে কাজী মারুফকে আইনি জটিলতায় ফাঁসিয়ে দেন তিনি। অসৎ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ‘বর্তমান’ ছবিতে অসৎ মিজু আহমেদের কথায় চলতেন।


এতবড় ক্যারিয়ারেও তিনি বাংলাদেশ বেতারের হীরক জয়ন্তীতে মূল্যায়ন পাননি। কার্ড পাঠিয়ে দায়িত্ব সারা হয়েছিল। যেখানে তিনি উচ্চতর কোনো সম্মান পেতে পারতেন। এটা নিয়ে তাঁর আক্ষেপ আছে। অবশ্য এদেশে গুণীর কদর যে হয় না জানা কথা।


একজন নাজমুল হুসাইন ‘কণ্ঠরাজ’ পরিচয়ে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকের মাঝে চিরকাল শ্রদ্ধার জায়গায় থাকবেন। তাঁর চিরচেনা কণ্ঠের জাদুতে দর্শক তাঁকে মনে রাখবেন। দৈনন্দিন জীবনে তাঁর কথার সুরেই আমরা কাছে-দূরে সবাইকে বলতে পারি ‘ভালো থাকা হয় যেন!'

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

হাওয়া সিনেমায় বন্য প্রাণী আইন লঙ্ঘিত হয়েছে: বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট

হাওয়া সিনেমায় বন্য প্রাণী আইন লঙ্ঘিত হয়েছে: বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট



আলোচিত হাওয়া সিনেমায় একটি শালিক আটকে রাখার দৃশ্য নিয়ে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগের মধ্যে সিনেমাটি দেখে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বলছে, এতে বন্য প্রাণী আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমনের চার সদস্যবিশিষ্ট একটি দল আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা শাখায় সিনেমাটি দেখেছে। পরে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, সিনেমায় একটি ভাতশালিক আটকে রাখায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর লঙ্ঘন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ‘হাওয়া’ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন প্রথম আলোকে জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। জানার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, ‘সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন বন বিভাগে দাখিল করবেন, পরে মামলা করা হবে কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা দেখেছি, আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, একটি শালিক সারাক্ষণ একটি খাঁচায় বন্দী ছিল। এর মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে একটি বার্তা যায় যে পাখি আটকে রাখা যাবে।

‘হাওয়া’ সিনেমার দৃশ্যটি নিয়ে ৩৩টি পরিবেশবাদী সংগঠন বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে, ছবি থেকে দৃশ্যটি বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা। সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, নাজিফা তুষিসহ আরও অনেকে।

বাংলাদেশে বন্য প্রাণী আটকে রাখা, হত্যা করার মতো অপরাধ দমনে সোচ্চার রয়েছে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এর আগে একটি টিভি নাটকে খাঁচাবন্দী টিয়া দেখানোর দৃশ্য থাকায় নাটকের পরিচালকের বিরুদ্ধে গত এপ্রিল ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছে এই ইউনিট। ওই মামলাটি এখন বিচারাধীন।

বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২

ছেলে মা হলেন পরীমনি

ছেলে মা হলেন পরীমনি


পুত্রসন্তানের মা–বাবা হলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি ও চিত্রনায়ক শরীফুল রাজ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পরীমনি। খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা শরীফুল রাজ। তিনি জানান, মা ও নবজাতক—দুজনই সুস্থ আছেন।

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই নাম ঠিক করে রেখেছিলেন পরীমনি। চলতি বছরের শুরুতেই পরী জানিয়েছিলেন, কন্যাসন্তান হলে তার নাম রাখবেন রানী আর পুত্রসন্তান হলে রাজ্য।

‘গুণিন’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়েই রাজের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়। সেই দেখার মাত্র সাত দিনের মাথায় গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। তারিখটা ছিল ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর। শরীফুল রাজ ও পরীমনির বিয়ের ঘটক ছিলেন পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম। আর উকিল বাবা ছিলেন রেদওয়ান রনি। এই দুজনের চেষ্টায় চার হাত এক হয়।

বাংলা সিনেমার দর্শককে অনেক বেশি জাজ করে ফেলি: রায়হান খান

বাংলা সিনেমার দর্শককে অনেক বেশি জাজ করে ফেলি: রায়হান খান

দর্শক হলে আসবে না, দর্শক এই কন্টেন্ট দেখবে না, ঐ কন্টেন্ট দেখবে না।

এই কথাগুলো আমরা আসলে কীভাবে বলি? আমাদের কাছে কি ডাটা সাইন্স আছে যে আমরা ডেমোগ্রাফি বিচার করে এইসব আলাপ করি?


আমরা কীভাবে বিচার করি, দর্শক একটা নির্দিষ্ট ধরনের সিনেমা দেখতেই হলে যায়? আমরা কীভাবে বিচার করি দর্শক শুধুমাত্র নাচ, গান, ফাইটিং দেখতেই হলে যায়? 


আমাদের সিনেমার যে ভগ্নদশায় আমরা আছি, সেখানে দাঁড়িয়ে এসব বলাই যায় না। 


শুরুতে আমরা কি এই প্রশ্নটা করি, আমরা কি আপডেটেড? আমরা কি going up or going down? 


এইটিজ থেকে আর্লি নাইন্টিজের কথা যদি বলি, সেসময়ে অনেক পারিবারিক আর সামাজিক সিনেমা হয়েছে, যার মাঝে ফাইট,নাচ,গান সেভাবে ছিল না।যেমন গোলাপি এখন ট্রেনে, সুন্দরী, ভাত দে, এই ঘর এই সংসার- এরকম অনেক সিনেমা। আমি নিজে এসব সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি। হলে উপচে পড়া মানুষ। শুক্রবার বা বন্ধের দিন সপরিবারে সবাই এসব সিনেমা দেখেছে। আমার পাশের বাসার মানুষজন, আমার ভাইবোনেরা দেখেছেন। তখন টেকনোলজিও এত ভালো ছিল না, যতদূর মনে পড়ে, এইটিজের পরেই আংশিক রঙিন সিনেমা এসেছে। সেই সাদাকালো বা আংশিক রঙিন সিনেমা দেখতে মানুষের এত ভীড়?


কী দেখতে যেত? গল্প দেখতে যেত? 

আবার যদি বলি, পাত্র পাত্রীর কথা, মুখস্থ একত্রে অনেক নায়ক নায়িকার নাম বলে দেয়া যায়। রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, মাহমুদ কলি, জাফর ইকবাল, উজ্জ্বল, জসীম- একটানা বলে দেয়া যায়।


নায়িকার কথা বললে- শাবানা, ববিতা, কবরী, নূতন, চম্পা, অলিভিয়া ও আরও অনেকে। 


আজকে ২০২২ এ এসে আমরা তিন-চারজন নায়ক নায়িকার বাইরে আলাপই করতে পারছি না। কেন পারছি না? তাহলে কি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক এগিয়ে গেছে নাকি পিছিয়ে গেছে?


এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, দর্শককে হলে আহ্বানের জন্য ইনভিটেশন কার্ড পাঠানো বাকি রাখতে হয় শুধু, যে হলে যান, হলে যান, হলে যান! 

আগে ফেসবুকও ছিল না। রেডিওতে বিজ্ঞাপন, পত্রিকায় কিছু বিজ্ঞাপন, রাস্তায় পোস্টার- এই তো ছিল প্রচারণা।


মানুষ আসলে সিনেমামুখী ছিল। এই যে সিনেমামুখী মানুষ সিনেমাবিমুখ হল- এই দোষটা কাদের? দর্শকের না। সেটা আমাদের। আমরা যারা সিনেমা বানাই, যারা প্রোডিউস করছি- সবাই মিলে দায়ী।


মানুষ ৬টা কমন ইমোশন দিয়ে তৈরি হয়েছে। কোন দর্শক সেই ৬ টা ইমোশনের বাইরে না। ইমোশনগুলো কি? 

Happiness, Sadness, Fear, Anger, Disgust, Surprise- এসবের বাইরে কেউই না। একটা গল্পে বা সিনেমায় এই ৬টার মাঝে একটা বা একের অধিক ইমোশন ট্রিগার করলেই সেই সিনেমা দেখতে দর্শক বাধ্য। কারণ কেউ সুখী হতে সিনেমা দেখতে চায়, কেউ দুঃখবোধকে পছন্দ করে, কেউ ভয় পেতে চোখ বন্ধ করে সিনেমা দেখেন, কেউ হিরোর এংরি ইমেজকে দেখতে সিনেমা দেখেন, কেউবা ফ্যান্টাসি দেখে সারপ্রাইজড হতে পছন্দ করেন- এই তো? 


তো আমরা যদি আমাদের গল্প বলি, নিজের দেশের গল্প বলি- আমার মনে হয় তাহলেই ইমোশনগুলো খুব সহজেই মানুষের ভেতরে চলে যাবে। আমরা যেন ঐ গল্পটা বলার চেষ্টা না করি, যে একটা কিক করলাম আর ৩০ গজ দূরে গিয়ে পড়লো, পা ফেললেই ধূলোর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কারণ এগুলো আমাদের গল্পই না। 


অনেক কথা বললাম। সবগুলোই ব্যক্তিগত মতামত। অবশ্যই অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে। আজকে সিনেমা নিয়ে যেসব কথা বললাম, নিম্নগামী একটা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কথা বললাম, সেই ইন্ডাস্ট্রির গেইম চেঞ্জার হচ্ছে- পরাণ ও হাওয়া- এই দুটো সিনেমা। 


 আমার মনে হয়, পরাণ ও হাওয়ার জন্য আমাদের শুভকামনাটাই শুধু করা উচিত। ভুলত্রুটি খুঁজে বের করব সময় এলে। আপাতত ভালো দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করি, যেন আগের মত দর্শক পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে হলে যায়। হইহট্টগোল করুক, হলভর্তি মানুষ থাকুক। 


একটা সিনেমা বানাতে ডিরেক্টর থেকে শুরু করে প্রোডাকশন বয়ের যে পরিমাণ পরিশ্রম যায় একমাস বা দেড়মাস, সেটা যারা বানান তারাই জানেন। তাই এই সময়ে উৎসাহটা জরুরি। 


আর ভালোকে ভালো বলতে কোন ক্ষতি নেই।


শুভকামনা পরাণ ও হাওয়া টিমকে। আবারও বলব, এই মুহুর্তে এই দুটো সিনেমা আমাদের জন্য গেইম চেঞ্জার।


- রায়হান খান, নির্মাতা

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

অনন্ত জলিল ও বর্ষা শৌখিন অভিনয় শিল্পী: মিশা

অনন্ত জলিল ও বর্ষা শৌখিন অভিনয় শিল্পী: মিশা

বিশিষ্ট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দিন-দ্য ডে’, অনন্ত জলিল ও বর্ষা অভিনীত এই সিনেমা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। সিনেমাটি গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছে। অনন্ত জলিল ও বর্ষা অভিনীত সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে চললেও দ্বিতীয় সপ্তাহে এর হলসংখ্যা অনেক কমে যায়। যদিও সিনেমাটি দর্শকের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বলে দাবি অনন্তের। বর্ষা দিন দ্য ডে সিনেমার প্রমোশনে অপু বিশ্বাস ও পরিমনিকে কটাক্ষ করে ইন্টারভিউ দিয়েছে।

বারবার অনন্ত জলিল দাবি করেছেন, তার এই সিনেমার বাজেট ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এটি বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। এতে বিভিন্ন দেশের শিল্পী কলাকুশলী কাজ করেছেন।


সিনেমাটির একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর। তিনি মনে করেন, ‘দিন-দ্য ডে’র মতো সিনেমা দিয়ে দেশের কোনো লাভ হয় না। এগুলোকে বড়জোর শৌখিন সিনেমা বলা যেতে পারে।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিশা সওদাগর বলেন, “দিন-দ্য ডে’ নিয়ে কথা বলার কী আছে। এই সিনেমা দিয়ে ইন্ডস্ট্রির কোনো লাভ নেই। ১২০ কোটি টাকার সিনেমা আমাদের এখানে বানানো সম্ভব নয়। এত টাকার সিনেমা চলবে কোথায়, টাকাটা উঠবে কীভাবে? কাজেই এটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। এছাড়া এই সিনেমায় প্রফেশনাল কোন শিল্পী নেই। ওনারা সাধারণত শৌখিন শিল্পী।”


অনন্ত জলিল সম্পর্কে মিশা সওদাগর বলেন, “তিনি মূলত একজন বড় পর্য্যায়ের ব্যবসায়ী। একজন সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)। তার ফ্যাক্টরিতে ১২-১৩ হাজার লোক কাজ করে। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের ভালো লাগা থেকেই সিনেমা বানান। এখানে ইন্ডাস্ট্রির বিন্দুমাত্র লাভ নেই। ইন্ডাস্ট্রির লাভ ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’, ‘শান’, ‘গলুই’ দিয়ে।”

উল্লেখ্য, ‘দিন-দ্য ডে’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম। বরাবরের মতো এই সিনেমায়ও নিজের স্ত্রী বর্ষাকেই নায়িকা হিসেবে নিয়েছেন অনন্ত জলিল।

যে মুচলেকা দিয়েছে হিরো আলম

যে মুচলেকা দিয়েছে হিরো আলম

আশরাফুল আলম সাঈদ ওরফে হিরো আলমকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে মুচলেকা নেওয়ার ঘটনায় দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও হিরো আলমকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিবিসি, এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিরো আলমকে পুলিশ নিয়ে গেছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হিরো আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও একই কথা বলেন।

কী ছিল মুচলেকায়

হিরো আলমের সই করা মুচলেকায় লেখা আছে, ‘আমি আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম এই মর্মে মুচলেকা প্রদান করছি যে ভবিষ্যতে আমি চলচিত্র বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কোনো অশ্লীল কমেডি, অডিও-ভিডিও গান, সংস্কৃতি বা ভাষার বিকৃতি, কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা পোশাকের অবমাননা বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করাসহ মানহানিকর ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা থেকে বিরত থাকব।

আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজ দায়িত্বে উপরিউক্ত বিষয়ের সকল ধরনের অডিও-ভিডিও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলব বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করব। ভবিষ্যতে আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ অপরাধ করব না। এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আমার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় ডিবি পুলিশের তলবমতে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হতে বাধ্য থাকব। ভবিষ্যতে আমি আর এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করব না মর্মে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ, অর্গানাইজড, ক্রাইম-ইনভেস্টিগেশন টিম, ডিএমপি-ঢাকায় মুচলেকা প্রদান করলাম। আমি সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে, বিনা প্ররোচনায় উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে অত্র মুচলেকা প্রদান করলাম।’ মুচলেকায় মো. মাহবুব নামের একজনের স্বাক্ষর রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, হিরো আলমকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই তথ্য যাঁরা প্রচার করছেন, তাঁরা মিথ্যা বলছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল, তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাদের জন্য ডেকে নেওয়া হয়েছিল। হিরো আলমকে গান গাইতে নিষেধ করা হয়নি, কাউকে যেন বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা না হয়, সেটাই বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো বিশেষ বাহিনীর পোশাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ও সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ডিবি কার্যালয়ে ডেকে হিরো আলমের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার বিষয়ে জার্মানির সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘সমাজ–সংস্কৃতি নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, এখানে তাঁদের কথা বলা উচিত। যেহেতু এখানে কেউ কিছু বলছে না, পুলিশ যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে অসুবিধাটা কী? আমাদের প্রচলিত আইনে আমি কোনো অপরাধ দেখি না।

কিন্তু এখানে একটা বিষয় আছে, কোনো কিছু বিকৃত করা কিন্তু অপরাধ। রবীন্দ্রনাথের গান তো নির্দিষ্ট একটা সুরেই গাইতে হয়। এটা যদি কেউ বিকৃত করে, তাহলে তাকে কি আইনের আওতায় আনতে হবে না?’

এর আগে ‘আমার পরান যাহা চায়’ শিরোনামে রবীন্দ্রসংগীতসহ তিনটি গান মিউজিক ভিডিও আকারে সামাজিক মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে সেগুলো অপসারণে হিরো আলমের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

হাওয়া সিনেমা রিভিউ

হাওয়া সিনেমা রিভিউ


হাওয়া মূলত একটা রিভেঞ্জের গল্প। প্লট সাজানো হয়েছে মিথ, দ্যা রাইম অভ দ্যা এনশিয়েন্ট মেরিনার আর প্যাট্রিয়ার্কাল সোসাইটিতে নারীকে ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখার ব্যাপারটিকে উপজীব্য করে। এ ব্যাপারগুলোকে সংসক্তভাবে দেশীয় প্রেক্ষাপটে স্থাপনের উপর সবকিছু নির্ভর করছিলো বলা চলে। সেটা মেজবাউর রহমান সুমন করতে পেরেছেন কৃতিত্বের সাথে। একবারও কিছু মেকি মনে হয়নি।

 

মিথের ব্যাপারে একদম শুরুতেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে 'দরিয়ায় কোন সাইন্স খাটে না'। আর মিথের ঘটনার আবহ সৃষ্টিতেও 'হাওয়া' দেখিয়েছে নৈপুণ্য। সিনেম্যাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যথার্থভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। শুরুতে কয়েকটি দৃশ্যকে অতিরিক্ত সিনেম্যাটিক মনে হলেও শেষে গিয়ে ওগুলোর ব্যবহার জাস্টিফাইড লেগেছে। 


কাস্টের সবার অভিনয় একটা নির্দিষ্ট লেভেলে ছিলো। কেউ কারো চেয়ে কম না। চঞ্চল চৌধুরীর চান মাঝি খানিকটা এগিয়ে থাকবে পার্ফম্যান্সের দিক থেকে। মানুষ যে দুনিয়ার সবচেয়ে হিংস্র জন্তু, দেশীয় সিনেমায় সেটির উপস্থাপন দেখে ভালো লেগেছে। ওভারঅল, ডিসেন্ট একটা এক্সপেরিয়েন্স। পয়সা উসুল হয়েছে ভালোভাবে। অতিরঞ্জিত হাস্যরসের যোগান দিতে না চাওয়ার জন্য এক্সট্রা পয়েন্ট থাকবে। 


পরিচালকের পরের সিনেমাও আসবে শীঘ্রই। যেখানে ওনার ফিল্মোগ্রাফির ইউজুয়াল সাসপেক্ট জয়া আহসানকে দেখা যাবে। আই হোপ হি কন্টিনিউস। বেশ উপভোগ করেছি। হলের দর্শকরাও ছিলেন ভালো।

সিনেমা রিভিউ লিখেছেন: মাহিম

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

মৌসুমী ও ওমরসানীর বিয়ে যেভাবে হয়েছিল

মৌসুমী ও ওমরসানীর বিয়ে যেভাবে হয়েছিল

 

মাদ্রাজ থেকে খবর এলো নায়িকা মৌসুমী অন্তঃ সত্ত্বা। গোটা চলচ্চিত্র শিল্পের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কারন তখন তিনি অসংখ্য ছবির নায়িকা। বেশিরভাগ ছবিতেই তার নায়ক ওমর সানি। তাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নিয়ে গুজব থাকলেও তারা বিয়ে করবেন একথা অনেকেই বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু মাদ্রাজ থেকে উড়ে আসা এই খবরে পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের রাগ কেন্দ্রীভূত হল ওমর সানী ও মৌসুমী র উপর। 


ব্যাপারটা মৌসুমী ঢাকায় টের পেলেও টেস্ট করানোর

সাহস পাননি। ভেবেছিলেন লোকজন টের পেয়ে যাবে। একটা ছবির শ্যুটিং এ আউটডোরে গিয়ে তিনি মাদ্রাজে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হন যে তিনি মা হতে চলেছেন।


ইউনিটের লোকদের কল্যাণে ঢাকায় খবর পৌঁছে গেল। অবস্থাটা উপলব্ধি করলেন মৌসুমী র বাবা নাজমুজ্জামান মনি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটা চাইনিজ রেস্তোরাঁ য় সাংবাদিকদের ডাকলেন। অকপটে স্বীকার করলেন ওমর সানির সাথে তার মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে। প্রযোজক দের আর্থিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে কথাটি গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি নানা হতে যাচ্ছেন, তাই খবরটি আর গোপন রাখা যাচ্ছেনা।

১৯৯৫ সালে গোপনে বিয়ে করলেও ১৯৯৬ সালের আগস্ট এ তারা বিয়ের অনুষ্ঠান করেন শেরাটনে।

রাষ্ট্রপতি উপহার পাঠান।

সাংবাদিকরা মৌসুমী র গোপন বিয়ের কথা আগে থেকেই জানতেন কিন্তু অনেকেই পাত্তা দেননি। মৌসুমী র বাবার স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে দিয়েছিল সাংবাদিকেরা সবসময় মিথ্যা খবর ছড়ান না, বরং তারকাদের স্বার্থে সত্যটা চেপে যান।